মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:
কমলগঞ্জে ভূমিদস্যু মাহমুদ আলীর হয়রানীতে অতীষ্ট এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সবার উপরোধ-অনুরোধ, আপত্তি উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে হয়রানী অব্যাহত রেখেছে ওই ভূমিদস্যু। পরিস্থিতি এমন দাড়িয়েছে যে, ওই দুটি পরিবারের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ বিয়োগান্তক পরিণতি সৃষ্টি হতে পারে যেকোন সময়।
জানা গেছে- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন ১নং রহিমপুর ইউনিয়নস্থিত রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত: আনফর উল্যার পুত্র মাহমুদ আলী দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার নিরীহ কৃষকদের জমিজমা জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তার দুই প্রবাসী পুত্রের টাকার গরমে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। ইতিপূর্বে তিনি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন এলাকার গনি মিয়া, মরহুম মাও: মুজিবুর রহমান, শরিফুল ইসলামসহ কয়েকটি পরিবারকে। বিগত ভূমিজরিপ শুরু হবার পর থেকে মাহমুদ আলী তার প্রতিবেশী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম খানের ছোটভাই আব্দুর রহিমের ৪৬ শতক ধানীজমির মালিকানা দাবীতে হয়রানী শুরু করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে লিপ্ত হন জবরদখলের চেষ্টায়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে রহিমপুর ইউপি অফিসে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ-পর্যালোচনা করে “আব্দুর রহিমের ওই ভূমিতে মাহমুদ আলীকে কোনপ্রকার ঝামেলা না করার মর্মে লিখিত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়”। এসময় মাহমুদ আলী উক্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও, পরবর্তীতে তা অমান্য করে একাধিকবার ওই ভূমি জবরদখলের চেষ্টা চালান। এতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুর রহিমের পরিবারের মহিলা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েদেরকে অশ্রাব্য গালিগালাজ, ওই জমির ফসল বিনষ্ট, রাতের আধারে বাড়ির গাছ কেটে নেয়া ইত্যাদি নানাভাবে হয়রানী করতে থাকেন। আব্দুর রহিম নিরুপায় মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা (নং-১৩৭/১৭ইং (কমল) দায়ের করেন (রুপান্তরীত ৬১/১৭ (কমল)। এর প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কমলগঞ্জ থানা ওই জমিতে জরুরী অবস্থা (১৪৪ ধারা) জারী করে এবং ওই জমি আব্দুর রহিমের ভোগদখলে আছে মর্মে সরেজমিন প্রতিবেদন প্রদান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদ আলী হয়ে উঠেন আরো বেপরোয়া
বিগত জুলাই ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মাহমুদ আলী ও তার স্ত্রী একাধিকবার ধারালো দা নিয়ে আব্দুর রহিমকে ধাওয়া করেন। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারী মাহমুদ আলী তার বাড়িতে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত লোক সমাগম ঘটিয়ে ওই জমি দখল করার ঘোষণা দেন এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমির আইল (সীমানা) কাটতে শুরু করেন। বিষয়টি কমলগঞ্জ থানার ওসি মোকতাদির হোসেনকে জানানো হলে, তিনি এসআই চম্পল দাস সহ দুইজন পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশের আগমন টের পেয়ে দলবলসহ মাহমুদ আলী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এভাবেই মাহমুদ আলীর হয়রানীতে অতীষ্ট হয়ে চলেছেন নীরিহ আব্দুর রহিম। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুল বলেন- মাহমুদ আলী দুষ্টলোক। কারো কথাই সে মানছেনা। আপনারা এ ব্যাপারে লেখালেখি করুন। প্রয়োজনে আমি সর্বাত্তক সহযোগীতা করবো।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কমলগঞ্জ থানার এস আই চম্পক দাম বলেন- ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি ওই ভূমি আব্দুর রহিমের ভোগদখলে আছে। মাহমুদ আলী অন্যায়ভাবে ওই ভূমির আইল কেটেছে। স্থানীয় লোকজনও জানিয়েছেন ওই ভূমি আব্দুর রহিমের ভোগদখলে আছে। মাহমুদ আলীকে কোনদিন ওই ভূমি আবাদ করতে দেখেননি। মাহমুদ আলী মিথ্যা দাবীতে আব্দুর রহিমকে হয়রানী করছে।